মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে কী যাচ্ছেতাই বলতে পারা❓
🇧🇩 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ আমাদের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এর অন্তর্ভুক্ত।
🗣️ আমরা অনেকেই মনে করি, যা মন চাই তাই বলতে পারা মানেই ‘বাক স্বাধীনতা’। অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাক স্বাধীনতার যে অপপ্রথা চালু হয়েছে তা মানুষের জন্য প্রযোজ্য নয়। কোনো দেশের, কোনো জাতির, কোনো ধর্মের মানুষই কখনোই পুরোপুরি স্বাধীন নয়। মানুষের সৃষ্টিই হয়েছে স্রষ্টার অনুগত্য পালন করার জন্য।
যখনই মানুষ নিজেকে অবাধ স্বাধীন মনে করেছে তখনই ঐশ্বরিক শাস্তি নেমে এসেছে পৃথিবীতে। ইসলাম অনুসারে মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)। তিনি আল্লাহর নির্দেশিত সীমা লঙ্ঘন করে শাস্তি পেয়েছিলেন।
আমি মনে করি, এ পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া সকল প্রাণীই স্বাধীন। শুধুমাত্র মানুষই পরাধীন। অথচ আমরা নিজেকে স্বাধীন ভেবে, অন্যদের পরাধীন করে বিজয়ী হতে ব্যস্ত!
ভাইরাল হওয়ার আশায় অথবা ভিউ বাড়ানোর নেশায় অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, চটকদারী অভিনয়কে কি শিল্প, সংস্কৃতি বা সৃজনশীলতা হিসেবে বিবেচনা করা যায়?
এ দেশে ভুল তথ্য, মিথ্যা বক্তব্য, বানোয়াট ঘটনা, নেতিবাচক ভঙ্গি ও রীতিনীতি বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে অসামাজিক আচরণ দিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করে নিজেকে জনপ্রিয়/ভাইরাল করতে পারলে সেলেব্রিটি হওয়া যায়। উত্তম ব্যক্তিত্বের মানুষ কখনও জনপ্রিয়/সেলিব্রিটি হতে পারে না। তবে তারা সম্মানিত ও স্মরনীয় হয়ে থাকেন।
যাচ্ছেতাই বলতে পারা ব্যক্তিত্বহীন মানুষ গুলোকে এখন উন্নত বিশেষণে আখ্যায়িত করা হয়। ব্যক্তিত্বহীন আদর্শহীনরাই ডিজিটাল সমাজের সমাজপতি। প্রজ্ঞাহীন ও বিবেকহীনদের নেতৃত্বে এখন এ সমাজের হাওয়া বদলায়, তিল থেকে তাল হয়। সামাজিক অশান্তি বেড়ে যায়।
পক্ষান্তরে জ্ঞানী, আদর্শবান, বিবেকবান ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষেরা আত্মসম্মান রক্ষার ভয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখে আড়ালে। তারা “আলোহীন খাঁচা ভালবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়/ এ যেনো নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী। স্বাধীনতা, একি তবে নষ্ট জন্ম?” ⁉️
আশফাকুর রহমান রাসেল

